ডায়েট চলাকালীন মিষ্টি বা তেলেভাজা খাবার দেখলেই মন যেন চঞ্চল হয়ে ওঠে! স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়েও অনেকের মন পড়ে থাকে ফুচকা, সমুচা বা রসগোল্লার দিকে। পুষ্টিবিদরা বলছেন, এই অযাচিত ক্ষুধা আসলে শরীরের ভেতরের হরমোন ও খাদ্যাভ্যাসের ভারসাম্যহীনতার ফল।

কেন বাড়ে অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আকর্ষণ

যদি খাদ্যাভ্যাসে কার্বোহাইড্রেট বেশি থাকে, তবে শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা বেড়ে যায়। এতে মিষ্টি বা আরও কার্ব খাওয়ার ইচ্ছা তীব্র হয়।
অন্যদিকে ঘুম ঠিকমতো না হলে ‘লেপটিন’ নামের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা তেলেভাজা খাবারের প্রতি টান বাড়ায়। এই দুইয়ের মিলেই ওজন নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে।


এই অভ্যাসগুলো গড়ে তুলুন

১. বিকল্প খাবারের অভ্যাস করুন

তেলেভাজা বা মিষ্টি খেতে ইচ্ছে করলেই হাত বাড়াবেন না। তার বদলে চটজলদি স্বাস্থ্যকর কিছু তৈরি করুন।
ঝাল খেতে ইচ্ছে করলে খান ছোলা, মটর, শশা দিয়ে তৈরি চাট।
মিষ্টি খেতে মন চাইলে নিন খেজুর বা ড্রাই ফ্রুটস।
আইসক্রিমের বদলে ফ্রুট স্মুদি খান।


২. রোল বা চাউমিনের বদলে পাউরুটি ট্রাই করুন

ফ্রিজে থাকা পাউরুটি কিউব করে কেটে নিন, সঙ্গে দিন গাজর, বিনস, পার্সলে ও চিলি ফ্লেক্স। হালকা তেলে ভেজে সস দিয়ে খেলেই তৈরি চটজলদি মুখরোচক খাবার।


৩. ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার বেশি খান

ফাইবার পেট ভরা রাখে দীর্ঘ সময়। তাই ডায়েটে রাখুন ওটস, ডাল, শাকসবজি ও ফলমূল। এতে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে থাকবে সহজেই।


৪. সুষম খাবার খান, কড়া ডায়েট নয়

একেবারে ডায়েট কমিয়ে না দিয়ে পরিমিত খান। ভাত, ডাল, সবজি, মাছ বা মাংস—সবই খান ভারসাম্য বজায় রেখে।
প্রতিদিন প্রোটিন রাখুন যেমন—ডিম, মাছ, মুরগি, পনির বা সয়াবিন।


৫. স্যুপ ও সালাদকে করুন সঙ্গী

স্যুপ ও সালাদ পেট ভরিয়ে রাখে এবং পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করে। ফলে বারবার ক্ষুধা পায় না ও অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতাও কমে।



ডায়েট মানে নিজেকে বঞ্চিত করা নয়, বরং শরীরকে সঠিকভাবে যত্নে রাখা। সঠিক অভ্যাস ও বিকল্প খাবারের চর্চা গড়ে তুললেই মিষ্টি ও তেলেভাজার প্রতি লোভ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

সূত্র: আনন্দবাজার